প্রকাশ: ০৮:১৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেড নিউজ, ঢাকা: সারা দেশে দুই হাজার ৭৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পাচ্ছে প্রথম ধাপে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগ। চলতি মাসেই পাইলটিং আকারে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরার পর তিনি তারিখ দিলেই এ পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)-এর আটটি কর্মসূচির আওতায় একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মসূচি অনুমোদন হলে আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস, জুতা ও ব্যাগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে এসব উপকরণ দেশীয় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে ২ লাখ ৫০ হাজার সেট স্কুলড্রেস, ৬৯ হাজার ৭০০ জুতা ও ১১ লাখ ২২ হাজার ২১৬টি স্কুলব্যাগ অধিদপ্তরে জমা আছে। এসব শিক্ষা উপকরণ এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা, আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলা, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের এবং ২৭ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলা পর্যায়ে এসব শিক্ষা উপকরণ পাঠানো হবে। এরপর জেলা শিক্ষা অফিসাররা পাইলটিংয়ের জন্য নির্বাচিত স্কুলগুলোতে এসব উপকরণ পাঠাবেন। পাইলটিং এ কর্মসূচি দেশের প্রতিটি উপজেলার চারটি করে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসব উপকরণ পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, যেহেতু এসব উপকরণ সরকার কেনে নাই, তাই সব প্রতিষ্ঠানে এখন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নানা দিক বিবেচনা করে প্রতিটি উপজেলা থেকে নির্বাচিত চারটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ উপকরণ পাবে। সেই হিসাবে ২০ হাজার ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসব উপকরণ পাচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা একই ধরনের উপকরণ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলড্রেস পাবে। আর ব্যাগ ও জুতা পাচ্ছে সব ক্লাসের শিক্ষার্থীরা। দেশীয় শিল্পকে প্রমোট করতে শিক্ষার্থীকে পাটের ব্যাগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। আর স্কুলড্রেস হিসেবে মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের ফ্রক বা টিউনিক এবং ছেলেদের জন্য হালকা নীল জামা ও গাঢ় নীল হাফপ্যান্ট দেওয়া হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ফিতাবিহীন সাদা রঙের জুতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বইয়ের পাশাপাশি এসব শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)’ আওতায় স্কুলড্রেস, ব্যাগ, জুতা ও মোজা বিতরণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ব্যয় করবে ৩৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিক্ষাব্যয় কিছুটা লাঘবের মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নেওয়া এ কর্মসূচিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার ও আবেগের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, প্রথমে পাইলটিং আকারে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। তিনি সময় দিলেই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কর্মসূচির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে চালু হচ্ছে মিড-ডে মিল এবং স্কুলড্রেস বিতরণ কর্মসূচি। মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কম্বাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ শিরোনামে একটি স্কিম হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ ছাড়া এ স্কিমের আওতায় শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবারের পাশাপাশি বছরে দুই সেট স্কুলড্রেস ও এক জোড়া জুতা-মোজা পাবে। সেইসঙ্গে স্কুলে এসে যাতে বিশ্রাম নিতে পারে, সেজন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা দুটি কমনরুম তৈরি করা ও স্বাস্থ্য উপকরণ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে দেওয়া হবে বিশেষ বরাদ্দ। স্কিমটির মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া এক হাজার বিদ্যালয়ে ২ লাখ শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে এ উপকরণ পাবে।
শীর্ষ সংবাদ: