প্রকাশ: ০৮:০১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেড নিউজ, ঢাকা:
অফিসের চাপ, একের পর এক মিটিং, কাজের ডেডলাইন, পরিবারের দায়িত্ব পালনে অনেকের জীবনে সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। সঙ্গীকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া অনেকের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
দিনের শেষে দু’জন পাশাপাশি থাকলেও একজন হয়তো ল্যাপটপে ব্যস্ত, অন্যজন মুঠোফোনে। প্রয়োজনীয় কথা হয়, কে বাজার করবে, কখন বাড়ি ফিরবে বা কী খেতে হবে-এসব নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে। ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে আন্তরিক কথাবার্তা, তৈরি হতে পারে অভিমান, মনোমালিন্য কিংবা অদৃশ্য দূরত্ব।
তবে সম্পর্ক ভালো রাখতে সবসময় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো জরুরি নয়। বরং অল্প সময়কে কতটা আন্তরিকভাবে ব্যবহার করছেন, সেটিই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ততার মাঝেও কিছু ছোট অভ্যাস সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে পারে। প্রতিদিন কম হলেও একে অপরকে সময় দিনপ্রতিদিন কম হলেও একে অপরকে সময় দিন।
প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজেদের দিন দিনে মাত্র ১০ মিনিটও হতে পারে সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ফাঁকে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে এমন একটি সময় বেছে নিন, যখন দু’জনই কিছুটা নিরিবিলি থাকতে পারবেন। এই সময় বাজারের তালিকা, অফিসের কাজ বা সংসারের হিসাব নয়. বরং একে অপরের দিনটি কেমন গেল, কী ভালো লেগেছে, কোন বিষয়টি বিরক্ত করেছে-এসব নিয়ে কথা বলুন। সঙ্গী কথা বলার সময় মনোযোগ দিয়ে শুনুন। পাশে থেকেও যদি মন অন্য জায়গায় থাকে, তাহলে সেই সময়ের আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তাই সম্ভব হলে ফোনটি কিছুক্ষণের জন্য দূরে রাখুন।
সম্পর্কের জন্য সময় আলাদা করে রাখুন ‘সময় পেলে একসঙ্গে থাকব’-এই পরিকল্পনা ব্যস্ত জীবনে প্রায়ই কাজ করে না। কারণ সময় পাওয়া নয়, সময় তৈরি করাটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট সন্ধ্যা শুধু দু’জনের জন্য রাখতে পারেন। বাইরে খেতে যাওয়া, কাছাকাছি কোথাও হাঁটতে যাওয়া, বাড়িতে পছন্দের সিনেমা দেখা কিংবা একসঙ্গে রান্না করাও হতে পারে সেই সময়ের অংশ। এটিকে আরেকটি কাজ মনে না করে সম্পর্কের যত্ন নেওয়ার সময় হিসেবে দেখুন।
নিজেদের মধ্যে অভ্যাস তৈরি করুন সম্পর্কে বড় আয়োজনের চেয়ে ছোট ছোট নিয়মিত মুহূর্ত অনেক সময় বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। সকালে একসঙ্গে চা খাওয়া, অফিসে যাওয়ার আগে কয়েক মিনিট কথা বলা, রাতে ঘুমানোর আগে দিনের একটি মজার ঘটনা শেয়ার করা কিংবা সপ্তাহান্তে একসঙ্গে নাশতা করা অভ্যাস দু’জনের মধ্যে এক ধরনের ব্যক্তিগত বন্ধন তৈরি করে। কাজের সময়সূচি আলাদা হলেও এমন কিছু মুহূর্ত খুঁজে নেওয়া সম্ভব, যা কেবল দু’জনের।
মনের কথা অনুমান করতে দেবেন না সঙ্গী নিজে থেকেই বুঝে যাবেন আপনি কী চান-এমন প্রত্যাশা থেকেই অনেক ভুল বোঝাবুঝির শুরু। একজন হয়তো ভাবছেন, ‘অনেক দিন ভালো করে কথা হয়নি, আজ একটু সময় কাটাতে চাই।’ অন্যজন হয়তো মনে করছেন, ‘সারাদিন কাজ করেছে, এখন তাকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার।’ দু’জনের চাওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু না বললে সেটি অন্যজনের কাছে পৌঁছাবে না। তাই অভিমান জমিয়ে না রেখে নিজের প্রয়োজন, অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা শান্তভাবে জানান।
অল্প সময়েও থাকুক পূর্ণ মনোযোগ প্রতিদিন হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা একসঙ্গে থাকার সুযোগ হবে না। কখনো ৩০ মিনিট, কখনো মাত্র এক ঘণ্টা-যতটুকু সময়ই পান, সেটিকে অর্থবহ করে তুলুন। একই ঘরে বসে দু’জনই আলাদা পর্দায় ডুবে থাকার চেয়ে কিছুক্ষণ মুখোমুখি কথা বলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটক এখন অতীত, সঙ্গী খোঁজার নতুন ট্রেন্ড ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দামি উপহার কিংবা ঘন ঘন ঘুরতে যাওয়ার চেয়ে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, মনোযোগ এবং আন্তরিকতা। প্রতিদিনের ছোট ছোট এই মুহূর্তগুলোই একসময় সম্পর্কের সবচেয়ে বড় উষ্ণতার জায়গা হয়ে উঠতে পারে।
শীর্ষ সংবাদ: