মুমিনের অন্তর পরিশুদ্ধ হয় যেভাবে

প্রকাশ: ০৭:২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুমিনের অন্তর পরিশুদ্ধ হয় যেভাবে

জেড নিউজ, ডেস্ক :

তোমার কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা তোমার ইসলাম পরিশুদ্ধ নয়, যা সবকিছুর মূল। তোমার কালেমার সাক্ষ্য পূর্ণ নয়। তুমি বলো আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তুমি মিথ্যা সাক্ষ্য দাও। কেননা তোমার অন্তরে বহু উপাস্য আস্তানা গেড়েছে। সময়ের শাসক, তোমার অঞ্চলের প্রশাসকের ভয় অন্তরে উপাস্যের জায়গা করে নিয়েছে।

নিজের উপার্জন, নিজের লাভ, নিজের শক্তি, নিজের ক্ষমতা, নিজের পর্যবেক্ষণ, নিজের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর তোমার অনঢ় আস্থা উপাস্যের জায়গা করে নিয়েছে। তোমার লাভ-ক্ষতি ও আদান-প্রদানে সৃষ্টির খুশি ও অখুশি তোমার উপাস্যে পরিণত হয়েছে। সমাজের বহু ভালো মানুষ যে অন্তরের এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছে; যদিও বাহ্যত তারা আল্লাহর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে। তারা আল্লাহর ইবাদত করে অভ্যাসবশত।

তাও শুধু মুখে মুখে। কিন্তু যখন তাদের প্রতি এমন অভিযোগ পেশ করা হয়, তখন তারা খেপে যায়। আমাদের কেন এমন বলা হয়? আমরা কি মুসলিম না? পরকালে সব আবরণ খসে পড়বে, সব গোপন বিষয় প্রকাশ পাবে। ইবাদত ও উপাসনার ক্ষেত্রে ‘লা ইলাহা’ সবকিছুকে না করার জন্য, আর ‘ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহর জন্য সর্বাত্মক আনুগত্য প্রমাণের জন্য। অন্য কারো জন্য নয়।

সুতরাং তোমার মনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ওপর আস্থা চলে আসার অর্থ হলো তুমি সব ‘ইবাদত-উপাসনা’ আল্লাহর জন্য এই সাক্ষ্যদানে মিথ্যাবাদী। তোমার উপাস্য হলো যার ওপর তুমি ভরসা করেছ। বাহ্যিক কথার কোনো মূল্য নেই। মুখের কালেমা তো মুনাফিকরাও পাঠ করত। অন্তরের সঙ্গেই প্রধানত ঈমানের সম্পর্ক। অন্তরই একত্ববাদের প্রকৃত সাক্ষ্যদাতা, আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ, আল্লাহভীরু, দুনিয়াবিমুখ, আল্লাহর পরিচয় লাভকারী ও আমলকারী। অন্য সব তার সৈনিক ও অনুগত মাত্র। যখন তুমি সাক্ষ্য দাও আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তখন তুমি আল্লাহর ওপরই আস্থা রাখো। আল্লাহ ছাড়া কারো ওপর ভরসা কোরো না।

তোমার বাহিরকে শরিয়তের সঙ্গে যুক্ত রাখো এবং ভেতরকে আল্লাহর সঙ্গে, ভালো-মন্দের স্রষ্টার সঙ্গে যুক্ত রাখো। যারা আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছে তারা তাঁর আনুগত্য করেছে। আল্লাহর সামনে তারা নির্বাক হয়ে গেছে। আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় বান্দার সামনে তারা বিনয়ী হয়েছে। তাদের চিন্তা ও ভয়ের পরিমাণ বেড়েছে। তাদের লজ্জা বেড়ে গেছে। অতীতের অপূর্ণতার অনুসূচনা বেড়েছে। আর যেসব ভালো পুণ্যের কাজ করেছে তা ছুটে যাওয়ার ভয় করছে। কেননা আল্লাহ যা ইচ্ছা করতে পারেন। কেউ তাঁকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা রাখে না, সৃষ্টিজগৎ জিজ্ঞাসিত হবে। কখনো নিজের বিগত দিনের অপূর্ণতা, অজ্ঞতা ও অস্থিতিশীলতার প্রতি দৃষ্টি দেয়; তবে লজ্জায় সংকুচিত হয়ে যায় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির ভয় করে।

আর ভবিষ্যতের প্রতি দৃষ্টি দিলে আশঙ্কা কাজ করে আল্লাহ আমলগুলো কবুল করবেন, নাকি করবেন না? যা কিছু দিয়েছেন তা কেড়ে নেবেন, নাকি অবশিষ্ট রাখবেন? কিয়ামতের দিন মুমিনের সঙ্গে হাশর হবে, নাকি কাফিরদের সঙ্গে? এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি চিনি এবং তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই।’

আল্লাহর পরিচয় লাভকারীদের মধ্যে এমন মানুষ খুব কমই হয়, যাদের মধ্যে ভয়ের তুলনায় নিরাপত্তাবোধ প্রবল থাকে। আল্লাহ পুরস্কার ও শাস্তির যে বর্ণনা দিয়েছেন তা পাঠ করে তারা নিজেরদের পরিণতি নিয়ে ভয় করে এবং মনকে তাগিদ দেয়, যেন সে নিশ্চিন্ত হয়ে না যায়।

আল্লাহর পরিচয় লাভের যে সাধনা তার সূচনা হয় ইসলাম গ্রহণ, আল্লাহর নির্দেশ পালন, নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার, বিপদে ধৈর্যধারণের মাধ্যমে। আর শেষ হয় আল্লাহ ছাড়া সবকিছুর মোহ ত্যাগের মাধ্যমে। তার অবস্থা এমন হয় যে তার কাছে স্বর্ণ ও মাটি, প্রশংসা ও নিন্দা, পাওয়া ও না পাওয়া, জান্নাত ও জাহান্নাম, সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা, সৃষ্টির অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতা—সবকিছু সমান হয়ে যায়। তার অন্তরে শুধু আল্লাহর অস্তিত্বই বাকি থাকে। আর কোনো বান্দা এমন স্তরে উপনীত হলে আল্লাহ তাকে সৃষ্টিজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব দান করেন।

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ: